
রামদিয়া ক্লিনিকে প্রসূতির মৃত্যুর পর টাকায় মীমাংসার চেষ্টা
স্টাফ রিপোর্টার: আল ইমরান:
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় আড়াই লাখ টাকায় মীমাংসার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রামদিয়া বাজারের বাবলু ক্লিনিকে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত প্রসূতির নাম আশা রানী বৈরাগী। তিনি উপজেলার ওড়াকান্দি গ্রামের চিকু টিকাদারের স্ত্রী। সাত দিনের নবজাতককে রেখে গত ১২ অক্টোবর ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্বজনরা জানান, গত ৬ অক্টোবর আশা রানীকে প্রসবের জন্য রামদিয়া ক্লিনিক ওরফে বাবলু ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ সার্জন ছাড়াই তড়িঘড়ি করে তার সিজার করা হয়। অপারেশনের কিছুক্ষণ পর থেকেই তার শরীরে অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে অন্যত্র নিতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ প্রথমে বাধা দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরে তাকে খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকরা ভয়াবহ চিত্র দেখতে পান। স্বজনদের দাবি, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন ভেতরের সেলাইয়ের জন্য নির্দিষ্ট সুতা ব্যবহার না করে অনুপযোগী সুতা ব্যবহার করা হয়েছে এবং ভেতরের সেলাই ঠিকমতো না দিয়েই ওপরের চামড়া সেলাই করে দেওয়া হয়েছিল। যে কারণে ভেতরে ক্রমাগত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল।
পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে প্রসূতির মৃত্যুর পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে টাকায় মীমাংসার অভিযোগ উঠেছে। ক্লিনিকের মালিক ফরিদ আহমেদ বাবলু নিজেই বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “মানবতার খাতিরে চেয়ারম্যান এসে বলছে, ওই বাচ্চাটার জন্য আড়াই লাখ টাকা দেন। তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে নবজাতকের জন্য আড়াই লাখ টাকা দিয়েছি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই টাকা দিয়ে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর ঘটনাটি মীমাংসা করার চেষ্টা করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বাবলু ক্লিনিকটি দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনহীনভাবে ও বিশেষজ্ঞ ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ সিজার পরিচালনা করে আসছে। চিকিৎসার নামে এমন অপচিকিৎসা ও প্রাণ নিয়ে বাণিজ্য বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।